মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৪

ধোবাউড়ায় পোড়াকান্দুলীয়া খাদ্য গুদাম থেকে ১৪৯ মেঃ টন চাল ও গম কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট: গতকাল মঙ্গলবার  বিশেষ তদন্ত টিম পোড়াকান্দুলীয়া খাদ্য গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে তদন্ত কাজ শুরু করেন। ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার পোড়াকান্দুলীয়া খাদ্যগুদাম থেকে ১১৮ মেঃ টন চাল, ৩১ মেঃ টন গম কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ তদন্তের জন্য গত ৩০ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহাবুবুর রহমান ৪ সদস্য বিশিষ্ট এই তদন্ত টিম গঠন করেন। জেলা প্রশাসন কর্তৃক নিয়োগকৃত ম্যাজিষ্ট্রেট বিভীসন কান্তি  মঙ্গলবার ১টার সময় তদন্ত টিমকে সাথে  নিয়ে পোড়াকান্দুলীয়া খাদ্য গুদামে গিয়ে সিলগালা খোলে তদন্ত কাজ শুরু করেন। পোড়াকান্দুলীয়া খাদ্য গুদামে অনিয়ম, পুকুর চুরি ও  স্টকে ব্যাপক গরমিল থাকায় তাৎক্ষনিকভাবে পরিমাপ নির্ধারণ করতে না পেরে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করে পূনরায় খাদ্যগুদামটি সিলগালা করে দেন। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক উসমান গনি জানান, বুধবার সকাল থেকে পূণরায় তদন্তকাজ শুরু হবে। ময়মনসিংহ জেলা সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুমাইয়া নাজনীনকে প্রধান করে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাফি আফজালুল আলম ,ফুলপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আজহার আলী তালুকদার , ধোবাউড়া উপজেলার খাদ্য পরিদর্শক শামীম আহম্মেদ কে সদস্য করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। উল্লেখ্য গত ২৭ নভেম্বর সকাল ১১টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধোবাউড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খান পোড়াকান্দুলীয়া খাদ্য গুদামে পরিদর্শনে গিয়ে স্টক বইয়ের হিসাব অনুযায়ী চাল ও গম না পাওয়ায় খাদ্যগুদামটি সিলগালা করে দিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরির্দশন কালে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক উসমান গনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে থেকে স্টকের পরিমাণ নির্ধারণ করেন। স্টক বইয়ের হিসাব অনুযায়ী গুদামে ৭২১ মেঃ টন চাল ও ২৭৪ মেঃ টন গম মজুদ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে গণনার শেষে ৬০৩ মেঃ টন চাল ও ২৪৩ মেঃ টন গম খাদ্য গুদামে মজুদ পাওয়া যায়। এতে মজুদ কৃত চাল থেকে ১১৮ মেঃ টন চাল ও ৩১ মেঃ টন গম কম পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে গত ২৮ নভেম্বর ধোবাউড়া উপজেলার খাদ্য পরিদর্শক শামীম আহম্মেদ বাদী হয়ে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল কবীরের বিরুদ্ধে ধোবাউড়া থানায় মামলা দায়ের করলে থানা পুলিশ মামলাটি ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন (দুদক ) কে অধিকতর তদন্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রেরণ করে। বর্তমানে মামলাটি দুদক তদন্ত করছে। একই দিন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব  হারুন অর রশিদ ধোবাউড়া উপজেলায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সাথে নিয়ে উপজেলা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস , পোড়াকান্দুলীয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্মানের জন্য প্রস্তাাবিত স্থান , পোড়াকান্দুলীয়া প্রাইমারী ও হাইস্কুল সরজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় পোড়াকান্দুলীয়া খাদ্যগুদামে চাল ও গম কেলেংকারীর চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়ে  স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করেন।

কোন মন্তব্য নেই: